ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)

ঢাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি নেই


ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী (ডিপিডিসি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেছেন, ঢাকায় এখন আর বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সোমবার দৈনিক আজকের বিজনেস বাংলাদেশের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিদ্যুতের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।
তিনি জানান, ডিপিডিসির গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৩৬ হাজার প্রায়। ঢাকায় কিছু কিছু এলাকায় মাঝে-মাঝে বিদ্যুৎ থাকে না, এটা বিদ্যুৎ বিতরণের সমস্যার জন্য হয়ে থাকে। আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুরাতন লাইনগুলোর উন্নয়নে ১৬০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মূলকাজ হলো বিদ্যুৎ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, লাইন এবং ক্যাবলের উন্নয়ন করা। রাজধানীর আজিমপুর, লালবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পুরোনো বিদ্যুৎ লাইনের কথা উল্লেখ করে বিকাশ দেওয়ান বলেন, এসব পুরনো লাইনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। এসব দুর্ঘটনা রোধেও কাজ চলছে।



তিনি জানান, রাজধানীতে খুঁটির উপরে আর কোন বিদ্যুৎ লাইন থাকবে না। বিদ্যুতের সকল লাইন মাটির নিচে স্থানান্তর করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চীনের সাথে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ। ২০১৮ সালের প্রথম দিকেই এর বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ লাইনগুলো মাটির নিচে স্থানান্তর করা গেলে আর দুর্ঘটনা ঘটবে না। প্রথমে ধানমন্ডি এলাকায় থেকে কাজ শুরু হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগে দুর্নীতির কোন স্থান নেই। সরকার এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুতের সিস্টেমলস বিভাগের ম্যাজিস্ট্রেটনা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। সিস্টেমলস কমিয়ে বিদ্যুতকে একটি লাভবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রিপেইড মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় ইতোমধ্যে প্রিপেইড মিটারিংয়ের আওতায় এসেছে। শিগগিরই বাকী এলাকা এর আওতায় চলে আসবে।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ডিপিডিসির স্বার্থের জন্য যা যা করার দরকার তাই করা হবে, একবিন্দু ছাড় দেয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর অনেক আন্তরিকতা রয়েছে। এই বিভাগের কোনো কর্মকর্তা দুর্নীতির আশ্রয় নিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অস্বাভাবিক বা ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ভৌতিক বিল বলে কিছু নেই। তবে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ মাঝে-মধ্যে অস্বাভাবিক দেখা যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল হয় দুই কারণে। প্রথমত, রিডিংয়ে ভুল, দ্বিতীয়ত, মিটার রিডারের ইচ্ছাকৃত। সমস্যাটি আমাদের নজরে আসলে তা সমাধান করা হয়।
তিনি বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে নির্মিতব্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ। এটা হয়ে গেলে আমাদের আর কিছু করা লাগবে না। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে ওই এলাকাসহ দেশের অর্থনীতি অনেক এগিয়ে যাবে। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় বড় বড় কারখানা স্থাপন শুরু হয়ে গেছে। অনেক হোটেল, রেস্টুরেন্ট হচ্ছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে রাশিয়া। আর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিক দিয়ে তারা অনেক পুরোনো। তারা সবসময় এ বিষয়ে গবেষণা করে।
বিকাশ দেওয়ান বলেন, বিদ্যুৎ জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে হলে কলকারখানা করতে হবে, মানুষের বেকারত্ব দূর করতে হবে। তখনই দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। এজন্য চাহিদামত বিদ্যুৎ দরকার। কারণ, প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ না থাকলে কলকারখানা স্থাপণ করা সম্ভব হবে না। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের ফলাফল। তাঁর নেতৃত্ব ও প্রজ্ঞা ইতোমধ্যে দেশ মধ্যম আয়ের দ্বারপ্রান্ত পৌছে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেই নয়, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতিশীল নেতৃত্বে সমৃদ্ধির হাওয়া লেগেছে। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, সচিব দুজনই বিদ্যুৎ সেক্টরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বিভাগের উন্নয়নে উনারা প্রতিনিয়ত এই বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাপের মধ্যে রেখে সচল রাখেন। উনাদের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ বিভাগ এগিয়ে যাচ্ছে।

আপনার বিদ্যুৎ বিল দেখুন
প্রথম স্থান
ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম, ২০১৮ তে প্রথম স্থান
শ্রেষ্ঠ স্টল
ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬ সালে 'শ্রেষ্ঠ স্টল'
শ্রেষ্ঠ স্টল
বিদ্যুৎ মেলা ২০১৪ সালে 'শ্রেষ্ঠ স্টল'
মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ইলেকট্রিক লাইনের রুট পরিবর্তন
গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের ইলেকট্রিক লাইনের রুট পরিবর্তন করা
সেরা কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড
আইসিএমএবি শ্রেষ্ঠ কর্পোরেট অ্যাওয়ার্ড ২০১২